মঙ্গলসূত্রে বুদ্ধ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে মঙ্গল সাধনের উপায় নির্দেশ করেছেন। সূত্রটি পাঠ করলে দেখা যায়, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশ সাধনে মঙ্গলসূত্রের উপদেশসমূহের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। মঙ্গলসূত্রের প্রতিটি উপদেশে মঙ্গল সাধনের উপায় নির্দেশ করা হয়েছে।
সূত্রে বলা আছে, পণ্ডিত বা জ্ঞানী ব্যক্তির সেবা করতে হবে, মুর্খ লোককে সেবা করা যাবে না। পূজনীয় ব্যক্তির সেবা করলে মঙ্গল সাধিত হয়। সদ্ধর্ম আচরণ করা যায় এমন দেশে বসবাস করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ যে দেশে সৎভাবে জীবনযাপন করা যায়, সে দেশে বসবাস করলে মঙ্গল সাধিত হয়।
নানারূপ শাস্ত্র ও বিদ্যা অর্জন করে সুশিক্ষিত হতে হবে। সুশিক্ষিত ব্যক্তির বড় গুণ বিনয় ও ভদ্রতা। মঙ্গলসূত্রে বিনয়ী হতে ও সুভাষিত বাক্য বলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরূপ নির্দেশনা মেনে চললে মঙ্গল সাধিত হয়।
মাতা-পিতা সন্তানদের অনেক কষ্ট করে লালন পালন করেন। মাতা-পিতার কারণেই আমরা পৃথিবীর আলো দেখি। বিবেকসম্পন্ন মানুষমাত্রই মাতা-পিতার সেবা করা পবিত্র কর্তব্য। স্ত্রী-পুত্রের প্রতিও কর্তব্য পালন করতে হয়। এতে মঙ্গল সাধিত হয়।
সৎ ব্যবসা ও চাকরি দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করলে মঙ্গল সাধিত হয়। দান করা, ধর্মাচরণ করা, আত্মীয়- পরিজনের উপকার করা এবং ধর্ম পালনে অবিচল থাকলে মঙ্গল সাধিত হয়।
কায়িক ও মানসিক পাপকাজ হতে বিরত থাকতে হবে। মাদক সেবন না করে অপ্রমত্তভাবে পুণ্যকর্ম সম্পাদন করলে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের মঙ্গল সাধিত হয়।
গৌরবনীয় ব্যক্তির গৌরব করা, তাঁদের যথাযথ সম্মান ও বিনয় প্রদর্শন করা, নিজের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা, উপকারীর উপকার স্বীকার করা এবং যথাসময়ে ধর্ম শ্রবণ করলে মঙ্গল সাধিত হয়।
ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ, সকলকে ক্ষমাশীল হতে হবে। গুরু বা শিক্ষকের নির্দেশ প্রতিপালন করতে হবে।
শ্রমণদের দর্শন ও যথাসময়ে ধর্মালোচনা করতে হবে। এভাবে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে মঙ্গল সাধিত হয়।
বৌদ্ধ ধর্মের পরম লক্ষ্য নির্বাণ। কুশলকর্ম সম্পাদন করে নির্বাণ পথে অগ্রসর হতে হয়। এজন্যই মঙ্গলসূত্রে তপস্যা, ব্রহ্মচর্য পালন ও চতুরার্য সত্য উপলব্ধি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে মঙ্গল সাধিত হয়।
ইহজাগতিক লাভ-অলাভ, যশ-অযশ, নিন্দা-প্রশংসা, সুখ-দুঃখ এই আট প্রকার লোকধর্মে অবিচল থাকতে পারলে মঙ্গল সাধিত হয়। শোক, পরিতাপ, লোভ, দ্বেষ, মোহ- এ সবই ক্ষতিকর। এসব থেকে মুক্ত হতে পারলে মঙ্গল সাধিত হয়।
উল্লিখিত কুশলকর্ম জীবনে অনুশীলন করলে মানুষের মঙ্গল সাধিত হয়। মঙ্গলসূত্রের প্রতিটি নির্দেশনা মানব জীবনে অনুসরণযোগ্য। এই নির্দেশনাসমূহ প্রকৃত অর্থেই ব্যক্তি ও সমাজের মঙ্গল সাধনের উপায় নির্দেশ করে।
অনুশীলনমূলক কাজ |
Read more